১.

নেবে এই আপেল
তার বৃত্তাকার থিওরিয়ামসহ?

২.

হিমের ভিতর অগ্নি
জ্বলছে, এখন বাহু
খুলে দিলেই হয়

৩.

কী খুব টায়ার্ড লাছে?
আজ আর রাঁধতে হবে না
দ্যাখো, এনেছি অরগ্যানিক শসা

৪.

আপেলতত্ত্বে কিযে ছেলেমানুষি
ভাবল ভোটেই হয়ে যাবে

৫.

উর্দ্ধগ ঢেঁড়স
তোমাকেও একদিন নাম লেখাতে হবে
গণতন্ত্রীদের দলে

৬.

এটা নিশ্চয় হুলোর কাজ
না না এটা হয়েছে দিল্লি থেকে
তাহলে তকমা আঁটা লোকটা গেল কোথায়?

৭.

রানি,
এইযে ফিরিয়ে দিলাম তোমার ম্যাজিক মাউন্টেন
আমাকে দাও এক প্যাকেট রয়্যাল বিরিয়ানি

আহা কি মিহিন লেনদেন!

৮.

মাথা ঝাঁকিয়ে ও যা-যা বলল
তার মানে লেখা আছে আপেলবিজ্ঞানে

৯.

আউস্তিস
তুমি খাঁটি নরডিক
তোমার প্লেন উড়ছে সু-উচ্চ আকাশে
আর উড়ছে তোমার বাইবেল
নিচে রেড সি-র তীরে
ভিনসেন্ট আর আমি
পপকর্ন ছড়াতে ছড়াতে সে-কথাই বলছি

১০.

এত উঁচুতে কেন?
বই থেকে নেমে এলে মাটিতে তারপর
চামেলিরা নাম লেথাতে শুরু করল
বৈতালিক সভায়

১১.

বরফ সংক্ষিপ্ত ভাষ্যে যা বলল
তার মানে লিথে ফেল জরুরি উপন্যাস:
ডেথ ইন এ্যানথোলজি

১২.

মিহি পরগণা
পানপাত্রে ভেসে উঠল
আজ তোমার সম্মার্জনা
সিভিল সোসাইটিতে,

একটু টান বুঝি লাগল নাভিতে!

১৩.

এই সংস্কৃতি
চপ্পল ফেলে আসা দূর-গ্রামে
অযথাই ঘামে

এখন বিস্মৃতি

১৫.

মেয়েলোকদের মধ্যে যারা অশীত-কাতর
তাদের ধরে এনে মন্ত্রী বানিয়ে দাও

১৬.

চিহ্ণে ঘোড়া
অ-চিহ্ণে উড়াল
তার ভিতর দিয়ে হেটে যাচ্ছি
নৃবিজ্ঞান আমি দুই হাজার নয় সাল

১৭.

শোন, সিনেমার গান কান পেতে সুদূর অরণ্যে
একদা সেথা অতিকায় হাতি
জন্ম দিয়েছিল ন্যুব্জ প্রজাতি
ওরাই এখন সংবিধান সাধন করে কবিতা লিখছে
পাতাবাহারদের জন্যে

১৮.

বেশ তো নাটক
আরো কিছুক্ষণ মনে হয় দেখা যায়
সেখানে নায়ক
গুম্ফহীন, কান্নাকাটি করে পানি মোছে শার্টের হাতায়
বলে: কেন দেবে না মন্ত্রীত্ব?
চলে এসে তারপর
চড় মারে গালে তিনখানা পর-পর
সিকোয়েন্স তোলপাড় করে যখন নায়িকা চলে আসে
ততক্ষণে পাড়া ভরে যায় করপোরেট সন্ত্রাসে!

১৯.

মাঠে মারা গেণ বিকেল চারটার রোদ
এতক্ষণ রৌদ্র হয়েছিল, তারও বেশি বাঘ
নাম না ঘোষণা করে ভার্চুয়াল সভায়
যেই টেক্সট গলে বেরুলো প্রবর গাঁদলায়
তারপর ধরা খেয়ে দশক-সন্যাসী- সকলের সামনে ন্যাংটা
গ্যালারিতে তখন কিযে আমোদ!

২ বৈশাখ ১৪১৬

২০.

জিতে নিতে গিয়ে আপেল
দেখল পরিধির বাইরেই খেল!

২১.

আপেলবিজ্ঞানে আপনিও কি কম ধুরন্ধর?
হে চৈত্রের প্রফেসর!

২২.

এসো, উড়াই ওষ্ঠপতাকা
গাই জ্বরতপ্ত কমলালেবুর গান
যা বলে বলুক জাঁক লাকাঁ
তাঁকে সামলাবেন মহাত্মা সলিমুল্লাহ খান।

২৩.

বেশ তো ছিলে এই সেদিনও ট্রেডল মেশিনে
গ্লাস উপচানো বিমুগ্ধ বিয়ার
আর এখন 'হতে' গিয়ে বমি করছ বেশিনে
বল তো, তোমার সর্কনাশ করেছে কোন্ প্পত্রিকার ইয়ার!

২৪.

জলপট্টি, তোমার লজিক
রাজনীতির চেয়েও সঠিক।

২৫.

গাবো, আপনার ইন্টারভিউ পড়েছিলাম প্লেবয় পত্রিকায়
অনেক সুঠাম শিশ্ন জেলিফিস নাভির মাঝখানে
আর আমরা মাথা ভাঙছি প্রচল শামদানে
ফেসবুকে মুখ দেখাতেও কিযে লজ্জ্বা, হায়!

৩ বৈশাখ ১৪১৬

২৬.

এসো, খৃস্টের জন্মদিনহেতু খুনোখুনি করি।

২৭.

গতকাল পড়েছি স্তাঁদাল
আজ পড়ব তোমার আড়াল!

২৮.

হেঁসো-দা, জেগে ওঠো
শাবল, গাঁইতি তোমরাও
আর এতদিন যা বলেছি সেই কথারাও

২৯.

গ্রীষ্মের ভিতর আম
দোলাইত আমার বিশ্রাম।

৩০.

কার কি বলার আছে?
আমি তো আমার ব্যক্তিগত চিনি ব্যবহার করি!

৩১.

চে, তোমাকে টি-শার্টে বেশ মানিয়েছে
কিন্তু যে-ছোকড়াটা গায়ে চাপিয়ে হাঁটছে ওটা একটা আস্ত গাড়ল!

৩২.

বেশ মার্কসবাদ হচ্ছে এখানে
নৌকা-ভ্রমনে!

৩৩.

আপেল-আবিষ্ট ও লোকাল ডিভান
সক্রিয় হোক সংবিধান!

৩৪.

কুটির শিল্প তোমাকে বিদায়
ভারি শিল্প আসো বিছানায়!

৩৫.

আরে!
এভাবে আপেল নাড়ে?
তোমার তত্ত্বজ্ঞান তবে কিছুই হয় নাই?
ওহে বোনদের পরগাছা ভাই!

৩৬.

তত্ত্বজ্ঞন,ব্যাকুল হয়ো না
খরাল চৈত্রেও সম্ভব আপেল অর্জন
পদ্ধতির প্রকার ভেদেই
আমরা এখন যার যার মতন নিরঞ্জন
ফলে, না-বুঝেই যুদ্ধাস্ত্র ছুঁয়ো না।

৩৭.

আপেলতত্ত্বে ছুরিবিশ্বাস জাগ্রত
যারা বুঝেছিল, তারা সকলেই এখন মৃত।

৩৮.

গগণ শিরিষ ব্যবহার করেছিল সুমন রহমান
ওর বৈধ কবিতার ছায়াবাক্যে, তাকে আমি
কাজে লাগাতে গিয়ে দেখি, সেখানেই ক'জন মাস্তান
ছুঁরি হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে, পা বাড়াতে গিয়েও আবার থামি
ওরা একটু এগিয়ে এসে ছুরি চালাবার কথা ভুলে গিয়ে
কান্না জুড়ে দেয়, কান্না থামাতে গিয়ে আমি আরো ঘামি
কষ্টে-সৃষ্টে বলি: নাও তবে তোমরাই এই গগণ শিরিষ
ওরা হতাশাবিধুর, ছুরি ফেলে অরণ্য প্রস্থান
করে। আর আমি গগল শিরিষে দেখি সুমনের মাতলামি!

৩৯.

তাজা ফলগুলি তার
বক্ররৈখিক লজিকে
কেমন যে স্নিগ্ধ বিস্তার
ঈশ্বরতা এমন যৌগিকে
জেগে উঠল যেন সংশ্লেষী আবেগ
আর আমি বিষদ ব্যাখ্যায়
দেখি জ্ঞান অতীব মিষ্ট
সংঘর্ষের প্রস্তাবনায়
বড়ে গোলাম আলি খাঁ-র সৃষ্ট
পাহাড়ি-তে উড়ন্ত মেঘ

তারপর বিদগ্ধ বৃষ্টি...

৪০.

তোমার স্বরে আমার সংসার
আহত হয়ে বসে আছে আর
হাতের হলুদ ঈষৎ লেগে গায়
আবারও সেই রাত্রি হতে চায়!

৪১.

ওই যে বস্ত্রবিতান জেগে উঠেছে
পাহাড় সন্নিকট থেকে সমুদ্র অবধি
সংবিধান মুলতবি রেখে চামেলি ফুটেছে
শহরে শহরে, এখন সকলেই নগ্নতা বিরোধী।

৪২.

সেখানে নদীর নিকটে
হ্যা, হ্যা, মানছি সবই ঘটে!

৪৩.

বিগত বোয়াল কি আশ্চর্য টমেটোতে
মিশে গেল বিনা শর্ততে।

৪৪.

পর্যটনে যাইছি গো মাগি
বই বন্ধ কর্,
আমি বলেছি তো সিটিস্কেপ দেখব না
দেখব হিরন্ময় জ্বর
গায়ে নিয়ে মাঠ, রৌদ্র, বর্তুল পাহাড়
আর নদীর ঈশ্বর।

৪৫.

ব্যাক-ব্রাশ-করা একটি শালিক
মায়াকভস্কি
কারখানার কার্নিশে ঘুরে-ঘুরে
সব কথা জানিয়ে দিল পৃথিবীকে
তাতে ওর দোষ কী!

১৫ বৈশাখ ১৪১৬

৪৬.

দোটানায় পড়েছে পাখিটা
কী গাইবে ভোর শুরু হলে?
ভুল গেয়ে হারাবে চাকরিটা
ও-তো জানেই না নাম লেখা কোন্ দলে!

৪৭.

দ্যাখো, তোমার আয়নাতেও আমাকে স্পষ্ট দেখা যায়!